তার রাত্তিতে আসে পাখিরা, বুকে শব্দেরা থাকে চুপচাপ
তার চোখের কাজল অধরে গড়াবে, নামলে বৃষ্টি টুপটাপ
তার নাকফুল আজ খুঁজে না সে, তার শেকল হয়েছে কঙ্কণ
তার নূপুরেরা যেন বেড়ি হয়ে আজ দু-পায়ে বাজে ঝনঝন
তাই রাত্রি-দুপুর জেগে থাকা তার, গ্রীষ্ম কিংবা শীতকাল
তার বুকের পাঁজরে বন্দি করে সে হাজার মৌন-চিৎকার
তার কানের দোলেরা দোলে না কানে, মাথায় ঝুলে না টিকলি
তার লিপস্টিক আর নেইলপলিশেরা শোরগোল করে বিশ্রী
তার হাতের মেহেদী হয়ে যায় ধীরে কালচে থেকে ফ্যাঁকাসে
তার চুলের ক্লিপটা, সিঁদুর টিপটা জানায় আজকে একা সে
তাই অনন্যোপায় দিশেহারা মনে নিজেকে দেয় সে ধিক্কার
আর বুকের পাঁজরে বন্দি করে সে হাজার মৌন-চিৎকার
তবু দিন যায় চলে, রাত আসে ফের- উঠে ঠিকই সে সূর্য
তার শহরও তবু প্রাণ ফিরে পায়- বাঁচবার চলে তোড়জোড়
শুধু ডেকে যায়, ডেকে-ডেকে বলে যায়- পড়নে হাতের ব্রেসলেট
যদি থাকলো না হাত হাতের মুঠোতে, এক সাথে কেন হাঁটলে?
কোনমতে তবু দিন চলে যায়, রাত্তিতে একই গীত তার
আর বুকের পাঁজরে বন্দি করে সে হাজার মৌন-চিৎকার ...