বাবার তর্জনী

বাবা (জুন ২০২৬)

Jamal Uddin Ahmed
  • 0
  • ২২
বাবার খসখসে তর্জনী পিছলে পড়েনি আজও
সঞ্চয়ের ঝাঁপি থেকে
সে আছে চিরঞ্জীব স্মরণের বিশাল মহালে।
ঝরে গেছে অনেক – খই, গুড়, বাতাসা যত
স্মৃতির খালুই ফুঁড়ে
নেই সেই ধেনু, দূর্বা, অঘ্রাণের সোনাঝরা মাঠ।

চোখে ঘুম নিয়ে হেঁটে গেছি মক্তবের পথ
মুঠবন্দী বাবার আঙুল –
খসখসে তর্জনী, আমার ভরসার পূর্ণ বরাভয়।
কাদা-জল-মাটি খুবলেছে হাত, পায়ের তলা
অনটন খেয়েছে আয়ু –
বাবার মুখের ঘামে বিকিরিত ক্ষয়িষ্ণু জীবন।

বাবা ছিলেন হালে, জালে, হাঁটুজল মাঠে
দিনভর সূর্যের সাথে
রুয়েছেন চরাচরে জীবনের যত আয়োজন।
রেখেছেন আমার মাথায় কিণাঙ্কিত হাত
কুপি জ্বেলে সায়ংকালে
হয়তো বুনেছেন স্বপ্নের বীজ অবসন্ন হাতে।

দিয়েছেন পিরান পাতলুন সব বাবার সাধ্যে
‘ভালবাসি’ শব্দটি ছাড়া
ঢেলেছেন রক্তে-ঘামে ঢের ভালবাসা তবু।
হয়তো আরও ছিল দেদার, মনে নেই আজ
কালান্তরে গেছে সব
জেগে থাকে শুধু বাতিঘর এক - বাবার তর্জনী।
আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন
Jamal Uddin Ahmed কবিতাটি পড়েছেন এতেই খুশি আমি। অনেক অনেক ধন্যবাদ।
মাহাবুব হাসান আব্বার সাথে আমার ছোটবেলার স্মৃতি হলো তার তর্জনী ধরে সকালে ঘুরতে বেরোনো। সেই স্মৃতিটাই ফিরিয়ে আনলো এই কবিতা। আপনার কবিতার এমনিতেই আলাদা আবেদন আছে। এটাও তাই। পুরো শৈশব থেকে প্রাপ্তবয়স্ক বয়সটা ঘুরে আসা যায়। সাথে নতুন কিছু শব্দ শেখা-জানা।

লেখার সাথে বিষয়ের সামঞ্জস্যতা ব্যাখ্যায় লেখকের বক্তব্য

বাবার খসখসে তর্জনী পিছলে পড়েনি আজও সঞ্চয়ের ঝাঁপি থেকে সে আছে চিরঞ্জীব স্মরণের বিশাল মহালে।

১৯ নভেম্বর - ২০১৭ গল্প/কবিতা: ১৯০ টি

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের আংশিক অথবা কোন সম্পাদনা ছাড়াই প্রকাশিত এবং গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী থাকবে না। লেখকই সব দায়ভার বহন করতে বাধ্য থাকবে।

আগামী সংখ্যার বিষয়

গল্পের বিষয় "বিশালতা”
কবিতার বিষয় "বিশালতা”
লেখা জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ২৫ জুন,২০২৬