রক্তকালির ঘড়িঘর

রহস্য (এপ্রিল ২০২৬)

Muhammadullah Bin Mostofa
  • 0
  • ৫৭

শহরের নাভি থেকে চুঁইয়ে পড়া ঘাম আর ধোঁয়ার গন্ধে রাতটা পচে গেছে। হিমাদ্রি তার পুরোনো সাইকেলের চেনে তেলের বদলে যেন অন্ধকার মাখাচ্ছিল। গলির ভেতর ল্যাম্পপোস্টের আলোটা কাঁপে, ঠিক যেমন কোনো আসন্ন ভয়ের আগে মানুষের চোখের মণি কাঁপে। হঠাৎ ইঁটপাথরের খাঁজ থেকে একটা শব্দ বেরোল। সেটা কান্নার মতো নয়, বরং কোনো পুরোনো দরজার কবজা ঘোরানোর কর্কশ গোঙানি। হিমাদ্রি থমকে দাঁড়াল। তার হাতের তালু ভিজে উঠছে। ঠিক এই গলিতেই চল্লিশ বছর আগে একটা আস্ত সিন্দুক সমেত মানুষ গায়েব হয়ে গিয়েছিল। লোকমুখে ফেরা সেই গল্পের পরতে পরতে ধুলো জমেছে, কিন্তু আজ মনে হচ্ছে ধুলো সরিয়ে কেউ নিশ্বাস নিচ্ছে।
অন্ধকার ফুঁড়ে বেরিয়ে এল এক বৃদ্ধ। তার পরনে তালি মারা কোট, চোখে সেই চশমা যার একটা কাঁচ ভাঙা। বৃদ্ধ হাসল না, শুধু ইশারা করল। হিমাদ্রি দেখল বৃদ্ধের আঙুলের ডগায় নীল রঙের দাগ। ঠিক যেমন কোনো প্রাচীন পুঁথির কালি লেগে থাকে। হিমাদ্রি পিছু নিল। সরু গলি পেরিয়ে তারা একটা ভাঙাচোরা অট্টালিকার সামনে দাঁড়াল। বাড়ির নামফলকটা ঘুণে ধরা, কিন্তু সেখানে খোদাই করা নামটা পড়তে হিমাদ্রির কষ্ট হলো না। সেটা তার নিজেরই প্রপিতামহের নাম। অথচ এই বাড়ির অস্তিত্বের কথা তার পরিবারে কেউ কোনোদিন উচ্চারণ করেনি। দরজাটা আপনিই খুলে গেল। ভেতরের বাতাস ভারী, যেন শতাব্দী ধরে কেউ কার্বন-ডাই-অক্সাইড জমিয়ে রেখেছে।
ঘরের কোণে একটা প্রদীপ জ্বলছে। তার শিখা স্থির, বাতাসে কোনো কম্পন নেই। বৃদ্ধ দেওয়ালে ঝোলানো একটা মানচিত্রের দিকে আঙুল তুলল। মানচিত্রটা এই শহরের নয়, বরং এমন এক মানচিত্র যেখানে নদীর বদলে রক্তবাহী ধমনী আঁকা। হিমাদ্রি কাছে গিয়ে দেখল, মানচিত্রের প্রতিটি মোড়ে একটা করে ছোট ছোট ছিদ্র। প্রতিটি ছিদ্র থেকে চুঁইয়ে পড়ছে সময়ের নির্যাস। বৃদ্ধ বিড়বিড় করে বলতে শুরু করল এক হারানো সম্রাটের কথা। সেই সম্রাট নাকি মৃত্যুর আগে নিজের ছায়াকে বন্দি করে রেখেছিলেন এই ইঁটগুলোর আড়ালে। সেই ছায়াই এখন হিমাদ্রির সামনে দাঁড়িয়ে থাকা এই বৃদ্ধ। হিমাদ্রি বুঝতে পারল, সে কোনো ভৌতিক গল্পে ঢোকেনি, বরং সে নিজেরই বংশগতির এক অদ্ভুত গোলকধাঁধায় আটকা পড়েছে।
দেওয়ালের ওপাশে হঠাৎ শব্দ হলো। মনে হলো কেউ যেন পাথর খোদাই করছে। হিমাদ্রি হাত দিয়ে দেওয়ালটা স্পর্শ করতেই অনুভব করল এক অদ্ভুত স্পন্দন। ইঁটের খাঁজে লুকানো একটা হাড়ের টুকরো বেরিয়ে এল। তাতে খোদাই করা কিছু সাংকেতিক চিহ্ন। সেই চিহ্নের ভেতরে লুকিয়ে আছে আর এক কাহিনী। এক নর্তকীর কাহিনী, যে কি না এই বাড়িতেই বন্দি ছিল কয়েক দশক। তার পায়ের মল থেকে ঝরে পড়া শব্দগুলো নাকি আজও এই মেঝের নিচে প্রতিধ্বনি তোলে। হিমাদ্রি কান পাতল। সত্যি তো, নিচ থেকে এক ক্ষীণ ঝনঝনানি ভেসে আসছে। বৃদ্ধ অদৃশ্য হয়ে গেছে। এখন ঘরে শুধু হিমাদ্রি আর সেই অশরীরী সুর। সে বুঝল, এই বাড়িটা আসলে একটা জ্যান্ত যন্ত্র। সময়ের চাকা এখানে উল্টো ঘোরে।
হিমাদ্রি মেঝে খুঁড়তে শুরু করল। তার নখ ফেটে রক্ত বেরোচ্ছে, কিন্তু সে থামছে না। মাটির নিচে সে পেল এক জোড়া রুপোর নুপুর আর একটা ছোট চিরকুট। তাতে লেখা, ‘আগন্তুক, তুমি যা খুঁজছ তা তোমার রক্তেই আছে।’ হিমাদ্রির মনে পড়ল তার বাবার কথা, যিনি ঘুমের ঘোরে সবসময় হাত দিয়ে কিছু একটা ধরার চেষ্টা করতেন। আজ সে বুঝতে পারছে, তার বাবাও এই একই গোলকধাঁধায় ঘুরপাক খেয়েছিলেন। শহরের কোলাহল এখন অনেক দূরে। এখানে শুধু ধুলো, রহস্য আর এক অনিঃশেষ প্রতীক্ষা। রাত বাড়ছে, আর হিমাদ্রি সেই প্রাচীন রহস্যের গভীরে নিজের অস্তিত্ব হারিয়ে ফেলছে। দেয়ালের ছায়ারা কথা বলতে শুরু করেছে। তারা বলছে এক আদিম সন্ধির কথা, যা পূরণ না হওয়া পর্যন্ত এই বাড়ির দরজা আর খুলবে না। হিমাদ্রি অন্ধকারে একা বসে রইল, হাতে সেই রক্তমাখা পাথর আর কানে সেই নর্তকীর নুপুরের শব্দ।



হিমাদ্রির হাতের তালুর ক্ষত থেকে চুঁইয়ে পড়া রক্ত নুপুরের গায়ে লাগতেই ঘরের ভেতর এক অদ্ভুত নীল আভা ছড়িয়ে পড়ল। সেই আলোয় সে দেখল মেঝের পাথরগুলো সরে যাচ্ছে। নিচের গহ্বর থেকে এক ভ্যাপসা ঠান্ডা বাতাস উঠে এল। সেখানে শুয়ে আছে এক বিশাল কাষ্ঠখন্ড, অনেকটা কফিনের মতো, কিন্তু তার আকৃতি মানুষের নয়। হিমাদ্রি বুকের ভেতর ধক করে এক ধাক্কা খেল। সে বুঝতে পারল এই কফিন আসলে এক অতিকায় সংগীতযন্ত্র। তার তারগুলো মানুষের চুলের মতো পাতলা অথচ ইস্পাতের মতো শক্ত। বৃদ্ধের সেই ভাঙা চশমাটা এখন মেঝের ওপর পড়ে আছে। হিমাদ্রি সেটা হাতে তুলতেই কাঁচের ভেতর দিয়ে এক অন্য দৃশ্য দেখতে পেল। সেই নর্তকী আসলে কোনো মানুষ ছিল না, ছিল এক যান্ত্রিক পুতুল। সম্রাট তাকে তৈরি করেছিলেন সময়ের গতি পরিমাপ করার জন্য। প্রতিবার সে যখন নাচত, শহরের এক একজন মানুষের আয়ু কমে যেত।
হিমাদ্রি সেই যন্ত্রের ওপর আঙুল রাখল। ছোঁয়ামাত্রই তার মাথায় হাজার বছরের স্মৃতি আছড়ে পড়ল। সে দেখল তার প্রপিতামহ এই বাড়িতে বসে কলম দিয়ে নিজের চামড়ার ওপর নকশা কাটছেন। তিনি আসলে এক চক্রান্তের সাক্ষী ছিলেন। সেই চক্রান্ত ছিল মৃত্যুকে থামিয়ে রাখার। এই অট্টালিকা কোনো বাসস্থান নয়, এটা একটা প্রকাণ্ড ঘড়ি। এর প্রতিটি ইঁট এক একটা সেকেন্ড। হিমাদ্রি বুঝতে পারল কেন তার বাবা ঘুমের ঘোরে হাত বাড়াতেন। তিনি সেই ঘড়ির কাঁটা থামানোর চেষ্টা করতেন। হঠাৎ সেই যান্ত্রিক নর্তকী অন্ধকার থেকে বেরিয়ে এল। তার মুখমণ্ডল দস্তার তৈরি, কিন্তু চোখ দুটো জীবন্ত। সেই চোখে হিমাদ্রি নিজেরই প্রতিচ্ছবি দেখতে পেল। নর্তকী তার হাত ধরল। সেই স্পর্শে কোনো উষ্ণতা নেই, শুধু এক হিমশীতল শূন্যতা।
দেয়ালের ঘড়িটা হঠাত্ বিকট শব্দে বেজে উঠল। তেরোবার। হিমাদ্রি জানত তেরোটা কখনও বাজে না। এর মানে সময় এখন এই ঘরের ভেতর স্থির হয়ে গেছে। বাইরে পৃথিবী হয়তো থেমে গেছে, অথবা বিলীন হয়ে গেছে। নর্তকী ইশারায় তাকে সেই কাষ্ঠখন্ডের ভেতর ঢুকতে বলল। হিমাদ্রি দেখল কফিনের ভেতর বিছানো আছে অসংখ্য শুকনো গোলাপের পাপড়ি। সেই পাপড়ির নিচে রাখা আছে তার বাবার ডায়েরি। সে ডায়েরিটা খুলল। প্রথম পাতায় লেখা ছিল, ‘যিনি এই লেখা পড়ছেন, তিনি জানবেন তিনি আর জীবিত নেই।’ হিমাদ্রির পিঠ দিয়ে একটা ঠান্ডা স্রোত বয়ে গেল। সে কি তবে অনেক আগেই মারা গেছে? এই গলি, এই সাইকেল, এই বৃদ্ধ—সব কি তবে তার নিজেরই অবচেতনের এক অন্তহীন খেলা?
সে জানলার দিকে দৌড়ে গেল। বাইরে কোনো শহর নেই। শুধু এক দিগন্তবিস্তৃত ধূসর মরুভূমি। সেখানে হাজার হাজার মানুষ পাথরের মতো মূর্ত হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। তারা সবাই এই বাড়ির দিকে তাকিয়ে। হিমাদ্রি বুঝতে পারল, সে আসলে এক চিরস্থায়ী প্রহরায় আটকা পড়েছে। বৃদ্ধ আবার ফিরে এল। এবার তার হাতে একটা নতুন চশমা। সে ফিসফিস করে বলল, ‘পরের গল্পটা তোমার হাত দিয়ে লেখা হবে।’ হিমাদ্রি কলম তুলে নিল। তার রক্ত এখন কালিতে পরিণত হয়েছে। সে লিখতে শুরু করল এক বালকের গল্প, যে কি না এক রাতে পুরোনো সাইকেল নিয়ে এক অন্ধকার গলিতে ঢুকে পড়েছিল। কাহিনীর ভেতর কাহিনী এভাবেই পাক খেতে লাগল। প্রতিটি শব্দে দেওয়ালের ইঁটগুলো একবার করে কেঁপে উঠছে। হিমাদ্রি এখন আর মানুষ নয়, সে নিজেই এই রহস্যের এক জীবন্ত অধ্যায়।


হিমাদ্রির আঙুল থেকে রক্ত চুঁইয়ে কাগজের ওপর আঁকিবুঁকি কাটছে। প্রতিটি শব্দ এক একটি শিকল। সে দেখল তার শরীরের নিচের অংশ ধীরে ধীরে কাঠের পাটাতনে রূপান্তরিত হচ্ছে। তার ধমনীগুলো এখন সরু তামাটে তার। বৃদ্ধের মুখে এক পৈশাচিক তৃপ্তি। সে জানলার কাছে গিয়ে দাঁড়াল। বাইরের সেই পাথরের মূর্তিরা একে একে নড়তে শুরু করেছে। তারা সবাই আসলে এই অট্টালিকার একেকটি হারানো চাবি। হিমাদ্রি বুঝতে পারল, এই বাড়ি কোনো দালান নয়, এটি একটি আদিম ক্ষুধা। যা প্রতি শতাব্দীতে একজন মানুষকে নিজের ভেতরে গিলে নিয়ে তার সত্তাকে কালিতে পরিণত করে।
ডায়েরির শেষ পাতাটা উল্টাতেই হিমাদ্রি দেখল সেখানে তার নিজের হাতের ছাপ। ছাপটা তাজা। যেন কয়েক সেকেন্ড আগে কেউ সেখানে হাত রেখেছিল। সে বুঝতে পারল, সে আসলে কোনো আগন্তুক নয়। সে এই গল্পের আদি লেখক, যে নিজের সৃষ্টি করা গোলকধাঁধায় নিজেই পথ হারিয়েছিল। বৃদ্ধটি আর কেউ নয়, হিমাদ্রিরই বার্ধক্যের এক ছায়া। যে হাজার বছর ধরে যৌবনের প্রতীক্ষায় এই গলিতে ওত পেতে ছিল। হিমাদ্রির চেতনার শেষ বিন্দুটি যখন কলমের ডগায় এসে ঠেকল, তখন ঘরটা এক তীব্র চিৎকারে ফেটে পড়ল। সেই চিৎকার নর্তকীর ঘুঙুর আর প্রপিতামহের আর্তনাদকে ছাপিয়ে গেল।
দেওয়ালগুলো সংকুচিত হতে শুরু করেছে। ইঁটগুলো একে অপরের ভেতরে ঢুকে যাচ্ছে। হিমাদ্রির শরীর এখন পুরোপুরি সেই বিশাল কাষ্ঠখন্ডের অংশ। তার চোখ দুটো দস্তার তৈরি হয়ে গেল। সে দেখল তার পুরোনো সাইকেলটা গলির মুখে পড়ে আছে। কিন্তু সেখানে কেউ নেই। শহরের ধুলো আর ধোঁয়া মুহূর্তের মধ্যে মিলিয়ে গেল। হিমাদ্রি এখন আর মানুষ নেই, সে এক নিঃশব্দ হাহাকার। ডায়েরির শেষ লাইনে সে লিখল, ‘গল্প যেখানে শেষ হয়, সেখানেই শুরু হয় এক অনন্ত অন্ধকার।’ কলমটা মেঝেতে পড়ে গেল। প্রদীপটা নিভে গেল এক ফুঁয়ে।
পুরোনো অট্টালিকাটা মাটির নিচে ধসে পড়ল। পরদিন সকালে সেখানে শুধুই একটা ফাঁকা গলি। কোনো বাড়ি ছিল না কোনোদিন। কেউ কোনোদিন হিমাদ্রি নামের কাউকে চিনত না। শুধু বাতাসের শোঁ শোঁ শব্দে মাঝেমধ্যে শোনা যায় এক জোড়া নুপুরের ক্ষীণ আওয়াজ। আর সেই গলির অন্ধকার কোণে পড়ে আছে একটা একপাটি ভাঙা চশমা। রহস্যটা শহরের মাটির নিচে চিরদিনের মতো চাপা পড়ে গেল। কেউ জানল না, সময়ের সেই প্রকাণ্ড ঘড়িটা আজ থেকে আবার নতুন করে টিকটিক শব্দ করতে শুরু করেছে। ইতিহাসের এক অধ্যায় শেষ হলো, কিন্তু শুরু হলো আর এক নিস্তব্ধতার রাজত্ব।
আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন
মেহেদী মারুফ আপনার লেখার সাথে আপনার প্রোফাইলের ছবিটা আমি কোনভাবেই রিলেট করতে পারছি না। ছবিটা বাস্তবেই আপনার নাকি অন্য কারো?? নাকি আগের ছবি নাকি বর্তমান আপনিই এরকম?? প্রশ্নটা করার কারণ, এই বয়সের একটা বাচ্চাতুল্য মানুষের থেকে এই লেখার ধরণটা সামঞ্জস্যতায় আসছে না। এত দারুণ লেখা!!
আসলেই এই প্রশ্নটা আমারও। এত ছোট বাচ্চা এত সুন্দর করে এমন রহস্যময় গল্প কি করে লিখলো? এমন গল্প লেখার আইডিয়া তো অনেক বড় বড় লেখকের মাথায়ও আসে না।
আসলে আমি প্রোফাইল ছবি পাল্টাইনি। যেটা সেই শুরুতে ইউজ করেছিলাম সেটাই আছে। তবে বয়সে তরুণই ???? আর হরর, থ্রিলার, ডিটেকটিভ এই জনরাগুলো আমার পছন্দের। বলতে গেলে এইগুলোই বেশি পড়ি ও লিখি।

লেখার সাথে বিষয়ের সামঞ্জস্যতা ব্যাখ্যায় লেখকের বক্তব্য

হিমাদ্রি তার পুরোনো সাইকেলের চেনে তেলের বদলে যেন অন্ধকার মাখাচ্ছিল

২৬ জানুয়ারী - ২০২২ গল্প/কবিতা: ৪২ টি

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের আংশিক অথবা কোন সম্পাদনা ছাড়াই প্রকাশিত এবং গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী থাকবে না। লেখকই সব দায়ভার বহন করতে বাধ্য থাকবে।

আগামী সংখ্যার বিষয়

গল্পের বিষয় "তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ”
কবিতার বিষয় "তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ”
লেখা জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ২৫ এপ্রিল,২০২৬