বাবা—একটা নাম, ঘরের দেয়ালে ঝুলে থাকা আলো
কিন্তু সে আলো কখনো ছুঁয়ে যায়নি আমার দুপুর।
শিশুর হাত বাড়ায়, শুধু বাতাসে ধরা পড়ে—
একটা অসম্পূর্ণ উচ্চারণ, একটুখানি থেমে থাকা শব্দ।
মা তখন নীরব সংসারের মতো দাঁড়িয়ে থাকে
তার চোখে জমে থাকে দিনের ভাঙা রোদ
হাড়ভাঙা ক্লান্তির ভেতরও তিনি গড়ে তোলেন
একটি সম্পূর্ণ পৃথিবী—অর্ধেক নিঃশ্বাসে।
পাড়ার উৎসবে যখন সবাই বলে—“বাবা এসেছে”
আমার ভেতরে তখন নেমে আসে এক অদ্ভুত সন্ধ্যা
যেখানে কোনো পাখি ফেরে না ডানায় ডানা মেলে
শুধু প্রশ্নগুলো ঘুরে বেড়ায় ধূসর আকাশে।
তবু আমি বড় হই—মাটির মতো ধৈর্যে
মায়ের হাত ধরে শিখি দাঁড়িয়ে থাকার ভাষা
অনুপস্থিতির ভেতরেও যে জীবন গড়ে ওঠে
তা কখনো ভাঙে না—শুধু নীরবে বদলে যায়।
আজ বুঝি, বাবা শুধু একজন মানুষ নয়
তিনি এক অসম্পূর্ণ উচ্চারণ, যা সময়ও শেষ করতে পারে না
আর আমি সেই উচ্চারণের ভেতর দাঁড়িয়ে
নিজেকে খুঁজে নিই—ছায়াহীন তবু অবিচল।
আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন
লেখার সাথে বিষয়ের সামঞ্জস্যতা
ব্যাখ্যায় লেখকের বক্তব্য
একটি শিশুর জীবনে বাবার অনুপস্থিতি তাকে গভীর মানসিক শূন্যতা ও প্রশ্নের মধ্যে ফেলে দেয়। বাবা নামটি তার কাছে কেবল একটি ধারণা, বাস্তবে যার কোনো উপস্থিতি নেই। মা সংসারের সব দায়িত্ব একা পালন করে সন্তানকে বড় করে তোলেন। চারপাশে যখন অন্যদের বাবার উপস্থিতি দেখা যায়, তখন শিশুর মনে বেদনাময় শূন্যতা তৈরি হয়। তবুও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সে মায়ের শক্তি ও ত্যাগের মাধ্যমে জীবনকে বুঝতে শেখে এবং নিজের ভেতরে দাঁড়ানোর সাহস অর্জন করে। শেষ পর্যন্ত সে উপলব্ধি করে, বাবার অনুপস্থিতিও তাকে এক ধরনের মানসিক শক্তি ও আত্মপরিচয়ের পথে এগিয়ে দিয়েছে।
১২ মার্চ - ২০২৬
গল্প/কবিতা:
৫ টি
বিজ্ঞপ্তি
এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের আংশিক অথবা কোন সম্পাদনা ছাড়াই প্রকাশিত এবং গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী থাকবে না। লেখকই সব দায়ভার বহন করতে বাধ্য থাকবে।