এই যে শীত এসে গেলো, এই যে গাঁয়ে গাঁয়ে লাগলো নবান্নের ঢেউ,
পিঠে পুলি, খেজুর রস, পায়েস এসব কী মনে রাখলো কেউ;
সবই যায় হারিয়ে কালের তলে, আগের মত হয় না আর উৎসব,
আসে না বাড়ী বাড়ী হতে পিঠে পুলির সৌরভ!
এই যে অঘ্রাণের সোনা ঝরা রোদ্দুর, হিম হাওয়া, রোদ্দুর পোহানো বেলা
কেউ ঘাসে শীতল পাটি বিছিয়ে পোহায় না রোদ্দুর, বসায় না সুখের মেলা
উঠোনে বসে না আর ধান মাড়ানোর মাড়া
গরু নেই গোয়ালে আর, গরু নিয়ে ঘরে ফেরার রাখালেও নেই তাড়া।
নেই বটের ছায়ায় দুপুর রোদ্দুরে রাখালিয়া বাঁশির সুর,
যন্ত্রের সাথে মানুষের সখ্যতা হলো, যত অকৃত্রিম সুখ হারালো দূর,
কৃষকের গায়ে নেই আর ঘাম ঝরানোর গল্প,
যন্ত্র কেটে দেয় ধান, করে মাড়াই......
নেই ধান মাড়ানোর সুখকর ঘ্রাণ আর অল্প।
খেজুর গাছে নেই রসের কলস, নেই ভোরের হাওয়ায় রসের ঘ্রাণ,
গাঁ ছাড়া মানুষের শহরে বাস, নেই যেন আর মাটির প্রতি টান;
টলটলে পুকুরে নেই মাছেদের হল্লা, নেই ফলে ভরা গাছ,
আধুনিক জামানা, লেগেছে মানুষের গায়ে কৃত্রিমত্তার আঁচ।
আহা হেমন্ত, ঢেঁকির শব্দ বাজে না আর কানে,
চাল গুঁড়া হয় না ঢেঁকিতে, ঢেঁকিতে কেউ আর ধান না ভানে;
মেশিনের বুকে মন রেখে মানুষ শিখে গেলো সুখ নিতে,
অতীতের মেকিহীন সুখের পুটলিতে বেঁধে দিলো সময় কালো ফিতে।
তবুও ঋতু আসে ঘুরে ফিরে, আসে হেমন্ত শেষে শীত,
তীব্র উষ্ণতা কাটিয়ে মানুষ গেয়ে যায় সুখে থাকার গীত,
প্রকৃতি পুড়ে যায়, মরে যায় লতাপাতা, মরে যায় ঘাস,
কান পাতলেই যেন শুনি গাছেদের বিলাপ, ঝরা পাতার সর্বনাশ।
প্রকৃতির লীলাখেলা আহা, করুণাময় দিয়েছেন সুখ দুঃখ গেঁথে,
তাঁর নিয়ামত, তাঁর রহমত, তাঁর দয়াতেই নেই আঁচল পেতে,
ভালোবাসি তাঁর সৃষ্টি এই সুন্দর পৃথিবী, ছয় ঋতু ভালোবাসি;
ভালোবাসি সবুজ বাংলাদেশ, ভালোবাসি ফসলের মাঠে
কৃষকের হাসি।