অস্থিরতা কমছে না আমাদের আর
ভালবাসার পঙতিগুলো ঐ বারবার
ঝড়ে ঝরে পড়া বৈশাখী কাঁচা আমের মত
গড়াগড়ি দেয়, থেঁতলে যায়, ক্ষতি তার আরও কত কত।
আমরা এই স্বদেশী প্রাণ কাঙাল ভারী
বাঙ্গালী বলেই এত কষ্ট মানতে পারি
অথচ আমরা ভালবাসায় ভাসতে চেয়েছি সদাই;
উড়তে চেয়েছি সুখের ডানায়, কিন্তু সে সব চাওয়া বৃথাই।
প্রাণে তবুও বাঙ্গালী জোয়ার বইছে
স্বপ্ন জাগিয়ে দেখি ঐ তো সুখ উড়ছে
চৈতি শ্যামল বাতাসে করে ভর চলে অপেক্ষার প্রহর;
নববর্ষ আসে, হিল্লোল আর হিন্দোলে মাতে মন, ছোটে উল্লাসের নহর।
সবুজ ঘাসে শিশিরের ক্ষীণ জড়াজড়ি,
প্রভাতের সূর্যটা হাসে ঠিক আড়াআড়ি,
ঘুম নেই , ঘুম নেই, তোমার আমার, আমরা দেবো ছুট;
ঘুমন্ত আশা আর প্রাণে লুকানো ভালবাসা আজ সময়কে করবে লুট।
রঙিন কাননে ধুলো জমেছে বহুদিন
ফুলের মত স্বপ্ন কত হয়েছে মলিন,
আজ প্রভাতের নববর্ষ আলোয়, মরণের ছাপ কিছুটা ধুলোয়,
পড়ি মরি করে ওড়ে রে ধুলো, আমার হাসি, কষ্ট আজই যাবে গো চুলোয়।
কষ্ট ক্লান্ত মনগুলোতে বর্ষবরণ সুর
অনেক সহ্য করার পরে দুঃখটুকু দূর
সাজ সাজ রব , লাল সাদা রঙ , ঐ সাজে আজ দলে দলে,
কিছুটা ক্ষণ দল মত ভুলে, রৌদ্রতাপের কষ্ট ফেলে সবাই বর্ষবরণে চলে।
অথচ চারপাশ ঠিক অস্থির বলয়ে ঘেরা
মনগুলো অস্থিরতায় ফালি ফালি চেরা,
রক্ত ঝরে মনে এই তোমার আমার, যেন অদৃশ্য লাল ঝর্ণা ধারা,
অদৃশ্য অস্থিরতাও, নববর্ষে তাই যতই লুকাই কষ্ট, ভালবাসা তো পঙতি হারা।
ধূসর মেঘের গোয়েন্দাগিরি ঐ আকাশে
কাল বৈশাখী আসবে বলে বাতাস হাসে
আমরা , মানে আমি তুমি জানি, প্রকৃতি সুখ দেয়, দেয় কষ্ট।
আমরা জানি না , সময় থামে না, আমি তুমি আজ দুঃসময়ে কতটা পথভ্রষ্ট।